
বইটা প্রিয়, অনেক প্রিয়।
ছোট একটা ছেলে, রোগা, ডেঙ্গুতে পায়ে জোর কম। বাবাকে ঠিকমত চেনার আগে বাবা গেলেন মারা। ঠাকুরদাকে দেখেওনি। বাবার রাজত্বহারা কয়েকবছর পরই।
অনাদরে বা অবহেলায় না, বেশ আদরেই কিন্তু এলেবেলে ভাবে বড় হলেন। লিখলেন শঙ্কু, লিখলেন ফেলুদা, সন্দেশে আবার ফিরলেন, বানালেন ছবি।
বইটায় কোনো হাহাকার নাই। হাহাকার বইয়ের সাবলীলতায়। আহারে জীবন!
অনুবাদক মতে পূর্ববর্তী অনুবাদগুলোয় নীটশার ভঙ্গিটা আসেনি, তিনি চেষ্টা করেছেন নীটশার কথা তার মত করে লিখতে। তা যদি হয়, তবে নীটশার লেখার সাহিত্যমানের জন্য একটি তারা।
তা বাদে, ভূমিকাতেই বলা আছে, গ্রীক ট্রাজেডি-সাহিত্যের অরিজিন নিয়ে তার যে ভাবনা তা সঠিক নয়। সঠিক না হওয়াটা সমস্যা না, সমস্যা হচ্ছে লেখা রিপিটেটিভ, ইনকন্সিসটেন্ট, বাস্তবতা-বিবর্জিতরকমের আবেগী। ভাববাদী দর্শন বরাবরই সাবজেক্টিভ। তবে তারও নিজস্ব রিজনিঙের গড়ন ও চলন থাকে। নীটশা ক্রিটিক্যাল রিজনিঙের বেশি ধার ধারেনাই এই বইয়ে।
Werner Heisenberg যেমনটা সবাই জানেন, মডার্ন ফিজিক্সের খুব গুরুত্বপূর্ণ এটি চরি���্র। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের স্রষ্টা এবং কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ফাউন্ডিং ফাদারদের একজন। ফলত, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের দর্শন নিয়ে এই বইটিতে কিছু ফার্স্ট হ্যান্ড আইডিয়া আছে। রিলেটিভিটি ও কোয়ান্টাম ফিজিক্সের মত আপাত-অ্যাবসার্ড তত্ত্বগুলো কীভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে এবং সেই বদলটা সাধারণের ভাষায় মোটামুটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তারসাথে উঠে এসেছে ফিজিক্সের ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্নযুগের দার্শনিকদের ভাবনা, ভাষা ও বিজ্ঞানের মিথষ্ক্রিয়া ইত্যাদি।
ভারতবর্ষের ইতিহাস তার ভুখণ্ডের মতই বিস্তৃত ও প্রাচীন। যে অংশটা আমাদের বিদ্যায়তনে পড়ানো হয় তা মূলত গত দুই শতকের বিপ্লব ও স্বাধীনতার ইতিহাস। বৃটিশদের হাতেই দুটি ভাগে ভাগ হলো ভারতবর্ষ। তার পঁচিশ বছর যেতে না যেতেই পাকিস্তান ভেঙে হলো দুটি দেশ। স্বাধীনতাই যে এই উপমহাদেশের মানুষের একমাত্র প্রয়োজন ছিল না তা এতদিনে আমরা বুঝে গেছি। সুশিক্ষার অভাব এবং আমাদের বহুযুগের কুসংস্কারের আধিক্যে আজও এই উপমহাদেশে হীনবল। আমাদের সকল সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আমি মনে করি সাম্প্রদায়িকতা। এই বইয়ের বিষয়বস্তু এক বিশেষ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা যা হিন্দুধর্মের মজ্জাগত একটি বিষয় যাকে আমরা বর্ণবাদ বলে জানি।‘জাত-পাত তোড়ক মণ্ডল' নামের একটি সংগঠন (মূলত কিছু দেশহিতৈষী উচ্চবর্ণের মানুষের প্রচেষ্টার ফসল) ড. আম্বেদকারকে([a:B.R. Ambedkar 618535 B.R. Ambedkar https://images.gr-assets.com/authors/1366392155p2/618535.jpg]) তাদের একটি সভার সভাপতিত্ব করতে অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে মণ্ডলের তুলনামূলক নরম অবস্থানের সাথে আম্বেদকারের না মিললে তিনি সভাপতি হওয়া থেকে বিরত থাকেন। সেই সভার বক্তৃতাটি তিনি মুদ্রণ ও বিতরণ করেন ‘Annihilation of Caste' নামে। এই বইটির শেষ সংস্করণে যুক্ত হয়েছিল এই বইয়ের প্রতিক্রিয়ায় লেখা গান্ধীর উত্তর ও তার পাল্টা উত্তর। এগুলোর সাথে আম্বেদকারকে নিয়ে লেখা অরুন্ধতী রায়ের([a:Arundhati Roy 6134 Arundhati Roy https://images.gr-assets.com/authors/1496705394p2/6134.jpg]) একটি প্রবন্ধ এবং প্রচুর টীকা সমেত একটি সংস্করণ করেছে লন্ডনের ভার্সো(Verso) প্রকাশনী। আমি সেটাই পড়েছি। বইটি নিয়ে কিছু বলার আগে আমার মনে হয় কিছু কিছু ব্যাপারে একটু বলা দরকার। হিন্দুধর্ম ও হিন্দুত্ববাদ ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্মের বয়স কম, হিন্দুত্ববাদের বয়স আরো কম। যারা ইতমধ্যে আমাকে হাজার-হাজার বছর পুরনো হিন্দুধর্মের গল্প বলার কথা চিন্তা করছেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলি, হিন্দুরা নিজেদের হিন্দু বলে জেনেছে বহিরাগত জাতিগুলো আসার পরে। এমনকি বৌদ্ধ ও জৈনদের তারা আলাদা ধর্ম বলে স্বীকার করত না। সে অর্থে হিন্দুধর্মের বয়স খুবই কম। হিন্দুত্ববাদ হিন্দুধর্মের রাজনৈতিক দর্শন, এর উৎপত্তি ও বিকাশ ব্রিটিশ শাসনামলে। বৈষ্ণব ও আরো কিছু সম্প্রদায়ের দর্শন উদার হলেও মূলধারার হিন্দুধর্ম খুবই অমানবিক ও সহিংস। বর্ণাশ্রম ও জাতিবাদ হিন্দুধর্মে বর্ণবাদ ও জাতিবাদ ভিন্ন ধারণা। মনুসংহিতায় হিন্দুদের চারটি বর্ণে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমানুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। বস্তুত গুণাবলির দ্বারা বর্ণ নির্ণয়ের নিয়ম থাকলেও ক্রমে তা জন্ম দ্বারা নির্ণয়ই রীতি হয়ে ওঠে। এই চারবর্ণের বাইরে সবাই অবর্ণ ও অস্পৃশ্য। অপরপক্ষে, জাতি পুরোপুরিই জন্মের ওপর নির্ভরশীল। সময়ের সাথে ব্যবহারিকক্ষেত্রে দুটোর পার্থক্য ম্রিয়মান হয়ে এসেছে। বর্ণে-বর্ণে, জাতিতে-জাতিতে সম্পর্ক ও মেলামেশায় বিধি-নিষেধ আছে। আম্বেদকার: যে বীরের গাঁথা নেই আম্বেদকার এসেছেন অস্পৃশ্য জাত থেকে। তারা বিদ্যা ও ধনগ্রহণে অযোগ্য, ভালো পোশাক, অলঙ্কার পরলে বা ঘি খেলেও যাদের শাস্তি পেতে হয়। সবর্ণ হিন্দুরা যাদের ছায়াও মাড়ায় না, যাদের সংশ্রব এড়িয়ে চলে। বস্তুত এ দাসত্বেরই নামান্তর। কোনো কোনো দেশে দাসদের চাইলে মুক্তি দেওয়া যেত। মুক্ত হওয়া দাস নিজের চেষ্টায় জীবনের উন্নতির চেষ্টা করলে কারো কিছু বলার ছিল না। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো জাত থেকে কোনো মুক্তি নেই।তো এই আম্বেদকার ব্রিটিশদের শাসনে শিক্ষার সুযোগ পেলেন। পেলেন এক রাজার আনুকূল্য। বিদেশে পড়লেন সেখানে সম্মান পেলেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি সেই অস্পৃশ্যই রয়ে গেলেন।আম্বেদকার সংগ্রাম করলেন। নিষ্পেষিত মানুষদের জন্য। কংগ্রেসের মত গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল সবসময়ই তাকে শত্রুর কাতারে ফেলেছে। বলা হয়, গান্ধীর সবচেয়ে বড় শত্রু তিনি। বলা হবেই বা না কেন? স্পষ্টভাষী ও বাস্তববাদী তিনি। বিনয় ছিল যথেষ্ট তবু সত্যের খাতিরে গান্ধীর সফেদ ভাবমূর্তি কাদায় মাখামাখি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। ব্যক্তি হিসেবে গান্ধী সারাজীবনই স্বার্থান্বেষী ছিলেন। প্রচণ্ড মৌলবাদী হলেও সময়মত ভোল পাল্টাতে তার দ্বিধা ছিল না। অরুন্ধতী রায়ের মতে:The trouble is that Gandhi actually said everything and its opposite. To cherry pickers, he offers such a bewildering variety of cherries that you have to wonder if there was something the matter with the tree.তাছাড়া খুব ইনিয়ে-বিনিয়ে সাফাই গাইতেও তার জুড়ি ছিল না। জাতিবাদ নিয়ে তিনি বলেন:Caste is another name for control. Caste puts a limit on enjoyment. Caste does not allow a person to transgress caste limits in pursuit of his enjoyment. That is the meaning of such caste restrictions as inter-dining and inter-marriage ... These being my views I am opposed to all those who are out to destroy the Caste System.আম্বেদকারের সংগ্রাম তখনকার স্বরাজের সংগ্রাম থেকে অধিকতর কঠিন ছিল। স্বরাজের আন্দোলন বস্তুত নিজেদের দেশের ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের দাবী। কিন্তু এইসব অস্পৃশ্য জাতির দেশ থেকেও নেই। গান্ধীর সাথে আম্বেদকারের প্রথম সাক্ষাত সম্পর্কে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন:In 1931, when Ambedkar met Gandhi for the first time, Gandhi questioned him about his sharp criticism of the Congress (which, it was assumed, was tantamount to criticising the struggle for the Homeland). “Gandhiji, I have no Homeland,” was Ambedkar's famous reply. “No Untouchable worth the name will be proud of this land.”এই অবস্থান থেকে ছিল তার লড়াইটা।তার চরিত্রের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই সমস্ত বিষয়ে তার প্রচণ্ড আবেগ থাকলেও তার লেখায় তিনি যুক্তি-প্রমাণের বাইরে এক পা-ও হাঁটেননি। অর্থাৎ, আলোচনায় তিনি নৈর্ব্যক্তিক।পাঠপ্রতিক্রিয়াএই বক্তৃতার শ্রোতা হওয়ার কথা ছিল মূলত শিক্ষিত হিন্দুসমাজ। তাত্ত্বিক বিষয়গুলো চেষ্টা করেছেন শিক্ষিতসাধারণের বোধগম্য করতে। তিনি জাতিবাদ ও বর্ণবাদের উৎপত্তি ও বিস্তার, তার কর্মপদ্ধতি ও মনস্তত্ত্ব, গভীরতা ও প্রভাব কখনো উদাহরণ দিয়ে, কখনো শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বুঝিয়ে বলেছেন। জাতিবাদের পক্ষের আলোচনার দাবিগুলো খন্ডন করেছেন আধুনিক সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের আলোকে। সমসাময়িক অন্যান্য প্রচেষ্টার নির্মোহ মূল্যায়ন করেছেন। চেষ্টা করেছেন সমাধান দিতে। এতই সংহত ও শক্তিশালী লেখা যে এটার বিরুদ্ধে লেখা গান্ধীর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তি বলতে কিছু ছিল না।এখন, কারো কারো কাছে এটি ঐতিহাসিক দলিল। ঐতিহাসিক ব্যর্থতার দলিল, কেননা এখনো শুধু ভারতে ১৬কোটি অস্পৃশ্য মানুষের বাস। ব্যর্থতা আম্বেদকারের না, হিন্দুদের। যে ব্যর্থতার কথা বলেছিলেন আম্বেদকার। শুধু একটি মূর্খ জনগোষ্ঠী কর্ণপাত করেনি:But the world owes much to rebels who would dare to argue in the face of the pontiff and insist that he is not infallible. I do not care for the credit which every progressive society must give to its rebels. I shall be satisfied if I make the Hindus realise that they are the sick men of India, and that their sickness is causing danger to the health and happiness of other Indians.
The Power of Myth বইটি বস্তুত বিল ময়ার্স নামক একজন জনপ্রিয় সাংবাদিকের কাছে জোসেফ ক্যাম্পবেলেরসাক্ষাৎকারের লিখিত রূপ বলা চলে। বিল ময়ার্স আমাদের দেশের সমকালীন সাংবাদিকদের মত নন তা আমি বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি। যথেষ্ট জ্ঞানী একজন মানুষ। অপরপক্ষে জোসেফ ক্যাম্পবেল অ্যাকাডেমিশিয়ান। জুটিটা ভালো ছিল।
ক্যাম্পবেল কাহন
বইটা পড়তে শুরুতে কিছু খটকা লাগছিল আমার। ব্যক্তিগত জীবনে ঈশ্বর আমার কাছে অস্তিত্বহীন, ধর্ম অবান্তর। বইটা পড়ে ক্যাম্পবেলকে আমার কেমন মনে হয়েছে সেটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। কেন করি তা ক্রমশ প্রকাশ্য।
ক্যাম্পবেল যুক্তিবাদী। তবে ঈশ্বরে তাঁর বিশ্বাস আছে। তিনি বড় হয়েছেন ক্যাথলিক হিসেবে। তার পড়াশোনার বিষয়বস্তু তুলনামূলক পুরাণতত্ব (Comparative Mythology)। যেসব পুরাণ আজ পর্যন্ত টিকে আছে তার সামান্যই মৌলিক। তাই বিভিন্ন পুরাণের তুলনামূলক বিচারের সাথে সাথে পুরাণকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার বদলে প্রতিকী অর্থে নেওয়া ক্যাম্পবেলের একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। ফলত, তাঁর ঈশ্বর ঠিক ধর্মগ্রন্থের ঈশ্বর নয় এবং বিজ্ঞানের সাথেও সাংঘর্ষিক নয়। একথা মনে রাখা প্রয়োজন, বিজ্ঞানের জগতটা অনেকটা এগিয়েছে, তাঁর সময়ে তিনি অনেককিছু জানতেন না বা অন্যভাবে জানতেন। বস্তুত, তিনি অবিশ্বাস ও বিশ্বাসের সীমানায় বিশ্বাসের পাশে দাঁড়ানো খানিকটা বিশ্বাসী, খানিকটা প্রকৃতিবাদী একজন মানুষ।
বই প্রসঙ্গে
প্রথমত, এই বইটি থেকে বৈজ্ঞানিক সত্যতা আশা করা ঠিক হবে না। এটি ভাববাদ ঘেঁষা অনেকভাবেই। তাছাড়া, আমাদের কাছে ধর্ম আর পুরাণ পরিপূরক। ধর্ম বস্তুত একটি কাঠামো, জীবনাচরণ। কিছু ব্রত, কিছু পালনীয় মিলে তৈরী হয়। মিথ বা পুরাণে আমরা পাই সেই ব্রত বা নিয়মের পিছনের গল্প। ধর্মে প্রায়শই পৌরাণিক গল্পের কারণের চেয়ে কাজটা প্রাধান্য পায়। ওইখানেই অন্ধতা ও কূপমণ্ডুকতার শুরু। এই বইতে ধর্মকে বিশেষ পাত্তা দেওয়া হয়নি। বইটিতে পুরাণের তাৎপর্য, এর চিরায়ত গুণাবলি, দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আছে প্রচুর পৌরাণিক গল্প। ক্যাম্পবেলের ভাষা চমৎকার, আগ্রহ ধরে রাখে অবলীলায়। ইউরোপীয়, আফ্রিকান ও এশীয়, একেশ্বরবাদী, বহুত্ববাদী ও প্রকৃতিবাদী, হরেকরকম পুরাণের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য, অন্তর্নিহিত দর্শন উঠে এসেছে বইটিতে।
তার দীর্ঘজীবনের পুরাণ সম্পর্কিত পড়াশোনা তার নিজস্ব জীবনদর্শনে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। সেই দর্শনকে তিনি নিজের ভাষায় বলেন, “Follow your bliss.” ধর্মীয় সংস্কারের বিশ্বাসের তুলনায় তার দর্শন মৌলিকভাবে আলাদা। তার বিশ্বাস সহনশীল কিন্তু ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নে অনমনীয়। প্রকৃতির সাথে একাত্মতা এবং পৃথিবীর দুঃখ-বেদনা মেনে নিয়ে বেঁচে থাকা, ভালোবাসা তার দর্শনের অংশ। ক্যাম্পবেলের চরিত্রের বয়ানের প্রাসঙ্গিকতা এখানেই। বস্তুত তার দর্শন ও তার জীবনাচরণের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। ধর্ম এবং এর হাজারো নিয়ম থেকে মুক্ত হয়ে তিনি পুরাণকে প্রতিকী অর্থে নিয়ে তা থেকে জীবনদর্শন ও নৈতিকতার কাঠামো তৈরী করেছেন। এজন্যই বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোকে মেনে নিতেও তার দ্বিধা হয়নি।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, অন্তত আমার ক্ষেত্রে বইটি চিন্তার খোরাক ছিল। ছিল দীর্ঘজীবন কাটিয়ে আসা একজন মানুষের অভিজ্ঞ চোখে অন্য মানুষের ভেতরটা দেখার একটা সুযোগ। মানুষের জীবন ও সভ্যতার চিরায়ত কিছু প্রশ্নের উত্তরে আমি ক্যাম্পবেলের সাথে একমত। পার্থক্য এই যে আমাদের পথ আলাদা।
ইশিগুরো সাহেব নোবেলটা পেতেই আমার মত যা তা পাঠকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আমিও পড়লাম। এটা ইশিগুরোর প্রথম উপন্যাস। নাতিদীর্ঘ, তবে বাঁধুনি আঁটো তাও না, বরং দুর্বল লেগেছে আমার কাছে।
গল্পে গল্প সামান্যই ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাপানের পুরাতন জাতীয়তাবাদ এবং নতুন পশ্চিম থেকে আসা গণতন্ত্রের সংঘাতটাই যতদূর যা আকর্ষণীয় লেগেছে। তা বাদে সংলাপ খুবই বিরক্তিকর রকমের পুনরাবৃত্তিমূলক ছিল।
পপ সায়েন্স লেখকদের মধ্যে যাদের নামডাক শুনি মিশিও কাকু তাদের শীর্ষস্থানীয়দের একজন। পুরো বইটির কথা বলতে গেলে লেখা সচ্ছল, সুপাঠ্য। পপুলার সায়েন্সের বইয়ের জন্য যা অবশ্যই দরকারি। তা না হলে আমার মত অভাজনেরা বিপদে পড়ে যায়। লেখার ধরণ খানিকটা সেগানের অনুগামী মনে হয়েছে, চ্যাপ্টারের শুরুতে ক্যোটেশন, দার্শনিক কথাবার্তা সব মিলিয়ে।
বইটাতে কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও স্ট্রিং থিওরির বেশকিছু ব্যাপারে আলোচনা আছে, অবশ্যই তা গণিতবিবর্জিত, সহজবোধ্যরূপে। তার যথাযথতার বিচার করার মত ক্ষমতা আমার নেই, তবে আমার মনে হয়, মূল ব্যাপারটা খানিকটা বুঝতে পেরেছি।
এগুলো ছাড়াও বইটির বিষয়ের মধ্যে ছিল সৃষ্টিতত্ত্ব, প্যারালাল ইউনিভার্স এবং উচ্চতর ডাইমেনশনগুলো নিয়ে কথাবার্তা।
বেশকিছু ব্যাপারে যদিও আমার দ্বিধা আছে। অবশ্য কোয়ান্টাম ফিজিক্স কমনসেন্সের ধার ধারে না। ব্যাপারটার বৈজ্ঞানিক অংশ আমি কমই বুঝি, দার্শনিক অংশটাই বেশি চোখে পড়লো। এর সাবজেক্টিভ নেচার নিয়ে আমি খানিকটা দ্বিধান্বিত, সন্দিহান এর যথাযথতা নিয়ে। যেমন ধরুন, আদ্রেই লিন্ডের এই কথাগুলো:
For me as a human being, I do not know any sense in which I could claim that the universe is here in the absence of observers. We are together, the universe and us. The moment you say that the universe exists without any observers, I cannot make any sense out of that. I cannot imagine a consistent theory of everything that ignores consciousness. A recording device cannot play the role of an observer, because who will read what is written on this recording device. In order for us to see that something happens, and say to one another that something happens, you need to have a universe, you need to have a recording device, and you need to have us... In the absence of observers, our universe is dead.
A man said to the universe:
“Sir, I exist!”
“However,” replied the universe,
“The fact has not created in me
A sense of obligation.” — Stephen Crane
Although Einstein was shocked by this result, it was too good to be true. Over the years, problems were discovered that rendered Kaluza's idea useless. First, the theory was riddled with divergences and anomalies, which is typical of quantum gravity theories. Second, there was the much more disturbing physical question: why don't we see the fifth dimension? When we shoot arrows into the sky, we don't see them disappear into another dimension. Think of smoke, which slowly permeates every region of space. Since smoke is never observed to disappear into a higher dimension, physicists realized that higher dimensions, if they exist at all, must be smaller than an atom. For the past century, mystics and mathematicians have entertained the idea of higher dimensions, but physicists scoffed at the idea, since no one had ever seen objects enter a higher dimension.
তো, নিষিদ্ধ বই সপ্তাহের জন্য পড়া শুরু করেছিলাম। তারমধ্যে শেষ করিনি অবশ্য।
২ তারকা ইনফরমেশনের জন্য।
তা বাদে, অনুবাদ বাজে, বক্তব্য অসংলগ্ন। খৃস্টান ধর্ম ‘মানবমুক্তি'র পক্ষে! সিরিয়াসলি! আর ইউ কিডিং মি! এরকম অনেক পক্ষপাতিত্বমূলক কথাবার্তা আছে বইতে। ব্যাপারগুলো খুব একটা যুক্তির ধারপাশ দিয়ে গেছে বলেও মনে হয়নি। অনেকটাই আবেগিক, প্রবন্ধের নির্মোহতা অনুপস্থিত।
বইটা এখন আউট-অব-প্রিন্ট। পড়েছি গ্রন্থ ডট কম-এ রাখা দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে।
প্রথমদিকে কয়েকটা চ্যাপ্টারে একই কথার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে খুব অল্প পরিসরে। বইটার বস্তুত চোখে পড়ার মত সমস্যা এটুকুই। তা বাদে বাঙলায় বিবর্তনের সম্পর্কে একটি সঠিক প্রাথমিক ধারণা পেতে বইটা অবশ্যপাঠ্য ধরে নেওয়া যায়। তাছা বিবর্তনবাদের বিবর্তন ও তার ইতিহাসও বলেছেন বেশ চমৎকারভাবে।
ভাষা মোটামুটি সুখপাঠ্য ও সাবলীল।
কাগুজে বইয়ের বেশ ভালোরকম বিরোধী আমি, ইবুকের পক্ষে। তারপরও কিনতে হয় কেননা কিছু কিছু বই এখনো ইবুকে পাওয়া যায় না। আপদধর্ম। যাহোক, দীপনপুরে কবিতার বই দেখছিলাম। কবিতার বই দেখার একটা উপায় আছে আমার। একটা বই খুলে যদৃচ্ছ পাঁচটি কবিতা পড়ি। গড় করি কেমন লেগেছে। না, এমন ভাবিনে যে সবগুলোই ভালো লাগবে। পাঁচটার মধ্যে দুটো ভালো লাগলেই কিনে ফেলি।
সেইমতে, কিনে ফেলেছিলাম। নির্মলেন্দু গুণ আজকাল ছেনালস্বভাবের (বয়সের দোষে হয়ত), কিন্তু কবিতায় তিনি কবি। অনেক অনেকের চেয়ে (যারা কিনা আজকাল ঢাকার আকাশ-বাতাশ কাঁপিয়ে কবিতা লিখছেন।) তাদের চেয়েও অনেক গভীর ও সৎ কবি।
কবিতাগুলো বড্ড বেশি ব্যক্তিগত। ব্যক্তিটি পুরুষ হওয়ায় খানিকটা পৌরুষিকও বটে। কিন্তু, চমৎকার কবিতা।
ভালো লেগেছে।
বইটা কেমন? বলা কঠিন। কীরকম কঠিন বলার চেষ্টা করছি। মনে করেন, মানুষের সাথে নানারকমের সম্পর্ক হয় দেহকেন্দ্রিক। বিষমকামি, সমকামি, বহুগামি, একগামি... এগুলোর প্রয়োজনীয়তা আলাদা আলাদা মানুষ আলাদা আলাদাভাবে বোধ করে। একজন একগামি মানুষের বহুগামিতার কারণ অজানা। একজন বিষমকামির কাছে সমকামিতা বিবমিষা সৃষ্টি করে। এর সাথে যোগ হয় সামাজিক নীতি, যা অনেকাংশেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়। তাতে হয় কি, আমাদের সামাজিক চেতনা আর প্রাকৃতিক অনুভূতির মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব থাকে সর্বক্ষণ। মুরাকামি বস্তুত এইসব অনুভূতি ও দ্বন্দ্ব নিয়ে লিখেছেন এই বইটা, নরওয়েজিয়ান উডও। মানুষর এইসব ব্যাপার মুরাকামি চেষ্টা করেছেন নৈর্ব্যক্তিক একটা অবস্থান থেকে লিখতে, লেখার ধাঁচে নৈর্ব্যক্তিক না, দর্শনে নৈর্ব্যক্তিক। অনেকেরই ভালো লাগবে না, এমনকি হাজেমির বহুগামিতা সামাজিকভাবে অন্যায়। অনেকে প্রথম খানিকটা পড়েই হয়ত ফেলে দেবেন বইটা। তবে, হাজেমির ব্যথাটাও সত্য। গল্পটা নীতির না, ব্যথার। অনেক মানুষের ব্যথা, ভেঙে পড়া, আশার গল্প। ভালো লেগেছে।